
সামনেই শারদীয় উৎসব। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে তাই চলছে মেলার আয়োজন। উৎসবের কেনাকাটায় শাড়ি, গয়না কিংবা ঘর সাজানোর পণ্য—সবকিছু একসঙ্গে খুঁজে নিতে এসব মেলা এখন ক্রেতাদের পছন্দের জায়গা। তেমনই একটি আয়োজন বসেছে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে।

গতকাল শুরু হয়েছে হার-ই-ট্রেড এক্সিবিশন ‘শারদীয় আবাহন’। দুই দিনের এই প্রদর্শনী চলবে আজ শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ৬২ জন নারী উদ্যোক্তা। তাঁদের পণ্যের তালিকাও বেশ বৈচিত্র্যময়—শাড়ি, পোশাক, গয়না, ব্যাগ, জুতা, হস্তশিল্প থেকে শুরু করে নানা ধরনের ঘরোয়া খাবার। ফলে মেলার ভেতরে ঢুকলেই একেকটি স্টলে মিলছে একেক রকমের পণ্যের দেখা।


হার-ই-ট্রেডের মূল লক্ষ্যই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যাতে তাঁরা নিজেদের উদ্যোগ ও সৃজনশীলতাকে সামনে নিয়ে আসার সুযোগ পান। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ তৈরি, বাজার সম্প্রসারণ, পণ্য প্রদর্শন এবং সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরির সুযোগও তৈরি করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। হার-ই-ট্রেডের স্বত্বাধিকারী ওয়ারেছা খানম প্রীতি জানান, এর মধ্য দিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মেলা ঘুরে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে দেশীয় হাতের কাজের বৈচিত্র্য। বিশেষ করে শাড়ির স্টলগুলোতে নানা ধরনের নিখুঁত হাতের কাজ ফুটে উঠেছে।



জামদানি, মণিপুরি থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক রঙে তৈরি শাড়ি- সবই আছে। কোনো শাড়ির জমিনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নিখুঁত পেইন্টিং, আবার কোথাও দেখা মিলেছে অ্যাপ্লিকের কাজের। কাঁথাস্টিচের বাহারি শাড়িগুলোও নজর কাড়ছে।

শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের কাজেই আটকে নেই উদ্যোক্তারা। বরং শাড়ির জমিন নিয়ে নানা মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন তাঁরা।


কেউ কাজ করছেন প্রাকৃতিক রং নিয়ে, কেউ প্যাচওয়ার্কে শাড়িকে নতুন রূপ দিচ্ছেন, আবার কেউ রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন জমিন।



শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার জন্য রয়েছে স্টিচ ও আনস্টিচ ব্লাউজের কালেকশনও। ফলে পছন্দের শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজও বেছে নেওয়া যাচ্ছে একই জায়গা থেকে।
শাড়ির পাশাপাশি মেলায় রয়েছে থ্রি-পিস, কুর্তি ও বিভিন্ন ধরনের জামা।



পোশাকের মধ্যে কুর্তির সংগ্রহ বেশ বড়। নারী ক্রেতাদের আগ্রহও দেখা গেছে এসব পোশাকে। নকশা ও কাটে রয়েছে জেন-জি উপযোগী নানা বৈচিত্র্য। কুর্তির সঙ্গে পরার জন্য মিলিয়ে নেওয়া যাবে বিভিন্ন ধরনের প্যান্টও।
এরপর আসে গয়নার প্রসঙ্গ। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গয়না কিনতেও দেখা গেছে ক্রেতাদের।


মেলায় স্বাধীনভাবে কাজ করা উদ্যোক্তাদের তৈরি গয়নায় ব্যবহার করা হয়েছে ব্রাশ মেটাল, রেজিন, আর্টিফিশিয়াল ক্লে, মাটি ও মুক্তার মতো উপকরণ।




পাশাপাশি রয়েছে স্টোন, কাঠ ও বিভিন্ন ধরনের বিডসের গয়না। নেকপিস, দুল, আংটি, ব্রেসলেট, চুড়ি ও মালা—নকশা ও উপকরণের বৈচিত্র্যে প্রতিটি স্টলেই রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। বাজেট বান্ধব গয়নারও বেশ কিছু সংগ্রহ আছে।
পোশাক আর গয়নার বাইরে মেলায় রয়েছে ব্যাগ, স্কার্ফ, আনস্টিচ কাপড় ও পারফিউম।



প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি নানা ধরনের লোকজ বাদ্যযন্ত্রও নজর কাড়ে। নারিকেলের শক্ত অংশ, শুকনো ফল বা বীজ, বাদামের খোসার মতো উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি এসব পণ্যে রয়েছে দেশীয় কারুশিল্পের ছাপ। হাতে তৈরি কাঠের নানা নকশা ও রঙের আয়না এবং কাপড়ের তৈরি আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল টুপিও পাওয়া যাচ্ছে।
মেলার খাবারের অংশটিও কম আকর্ষণীয় নয়। বিভিন্ন উদ্যোক্তা নিয়ে এসেছেন ঘরোয়া ও দেশীয় আঞ্চলিক খাবার। ছাতু, চিড়া, সরিষার তেল, মোয়া, পাঁপড়, কাসুন্দি ও চানাচুরের পাশাপাশি রয়েছে ফ্রেশ জুস, মিষ্টি, পুডিং, কেক ও ফুচকা।


সব মিলিয়ে ‘শারদীয় আবাহন’ শুধু উৎসবের কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারী উদ্যোক্তাদের কাজ দেখারও একটি সুযোগ। একই ছাদের নিচে এত বৈচিত্র্যময় দেশীয় পণ্যের উপস্থিতি মেলার পরিসরকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি উদ্যোক্তাদের নিজেদের কাজ সরাসরি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগও তৈরি করেছে।
ছবি: হাল ফ্যাশন