লো মেরিডিয়েনে দ্য গ্রেট ব্রিটিশ ব্রাঞ্চ: ব্রিটিশ রন্ধনসংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বৃষ্টিভেজা শুক্রবারের দুপুর। রাজধানীর আকাশে মেঘ, অথচ লো মেরিডিয়েন ঢাকার ১৫ তলার ‘লেটেস্ট রেসিপি’ রেস্টুরেন্টের ভিউ এমনিতেই মন ভালো করে দেয়, আর ছুটির আমেজে যদি উপভোগ করা যায় খাঁটি ব্রিটিশ খাবার তাহলে তো কথাই নেই। ৩০ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শেফ ক্রিস বাটলার কাজ করেছেন চীন, থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে। সম্প্রতি এক্সিকিউটিভ শেফ হিসবে যোগদান করেছেন লো মেরিডিয়েন ঢাকায়। তাঁর রন্ধনের জাদু সবার কাছে পৌঁছে দিতেই ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ ব্রাঞ্চ’–এর সূচনা।

এক টুকরো ব্রিটেন
এক টুকরো ব্রিটেন

১০ অক্টোবর দুপুরে এই ব্রাঞ্চের উদ্বোধন করেছেন ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুক। অতিথিদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন হোটেলের সদ্য যোগ দেওয়া এক্সিকিউটিভ শেফ ব্রিটিশ নাগরিক ক্রিস্টোফার বাটলার ও লো মেরিডিয়েন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার কনস্টান্টিনোস এস গ্যাব্রিয়েল। জেনারেল ম্যানেজার কনস্টান্টিনোস বলেন, ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ ব্রাঞ্চ’ আসলে খাদ্যসংস্কৃতির অনন্য অভিজ্ঞতা।

বিজ্ঞাপন

যেটা নিতে পারেন আমাদের অতিথিরা। এখানে ঐতিহ্য আর আধুনিকতা হাত ধরাধরি করে চলে। শেফ বাটলারের হাত ধরে ঢাকায় প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ কমফোর্ট কুইজিনের পূর্ণতা উপভোগ করতে পারবেন অতিথিরা।

মাংস ও মাছের নানা পদ
মাংস ও মাছের নানা পদ
আছে রুটি রাশি রাশি
আছে রুটি রাশি রাশি

বাংলাদেশে ব্রিটিশ খাবারকে এভাবে উপস্থাপিত হতে দেখা সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য তাদের উৎকৃষ্ট উপকরণ ও সুস্বাদু রান্নার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এ জন্য দেশের স্বাদ পেতে আমি উদগ্রীব ছিলাম। সবচেয়ে ভালো লাগছে এই ভেবে, ঢাকাসহ বাংলাদেশের মানুষ বছরের শেষ পর্যন্ত এই ব্রিটিশ খাবারে স্বাদ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

বিজ্ঞাপন

‘আমি চাই, অতিথিরা যেন বুঝতে পারেন, ব্রিটিশ খাবারের মধ্যেও আছে স্বাদের বৈচিত্র্য’, বলেছেন এক্সিকিউটিভ শেফ ক্রিস্টোফার বাটলার। তিনি আরও বলেন,  ‘আমাদের মেনু ব্রিটিশ অথচ স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে মানানসই করে তৈরি। আমি নিজেও এখানে এসে বিরিয়ানি আর রসমালাইয়ের ভক্ত বনে গেছি।’

নানা পদের সমাহার
নানা পদের সমাহার
মিলবে বিলাতি স্বাদবৈচিত্র্য
মিলবে বিলাতি স্বাদবৈচিত্র্য

‘লেটেস্ট রেসিপি’ রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা গেল, এই ব্রাঞ্চে শুধু খাবার নয়, অন্দরসজ্জা করা হয়েছে পুরোপুরি ব্রিটিশ আবহে। ব্যবহার করা হয়েছে ইউনিয়ন জ্যাক, লন্ডনের আইকনিক টেলিফোন বুথ, বিগ বেন আর ক্ল্যাসিক বিল্ডিং স্ট্রাকচারের প্রতিরূপ। যেটা দিচ্ছে লন্ডনের এক ঝলক। এই বিশেষ বুফে ব্রাঞ্চ কেবল আর পাঁচটা আয়োজনের মতো নয়; বরং বলা যায় এটা ব্রিটিশ রন্ধনসংস্কৃতির ঐতিহ্য, নান্দনিকতা ও স্বাদের সম্মিলন। মেনুতে এদিন ছিল, ব্রিটিশ ক্ল্যাসিক পদ—স্মোকড স্যামন ক্যানাপি, মিনি ফিশ অ্যান্ড চিপস কোন, শেফার্ডস পাই বাইটস, ইয়র্কশায়ার পুডিং উইথ রোস্ট বিফ, সমারসেট ব্রেইজড বিফ, ভিক্টোরিয়া স্পঞ্জ কেক, বেকওয়েল টার্ট, পাইনঅ্যাপল আপসাইড ডাউন কেক, ক্ল্যাসিক ইংলিশ চা।

চমৎকার সৃজনশীলতার সঙ্গে সাজানো ডেজার্ট কর্নারটি ছিল দৃষ্টিনন্দন। সেখানে দেখা মিলেছে পিস্তাশিও মুজ কেক, লেমন মার্গারিটা টার্ট, চকলেট মুজ, ম্যাংগো পুডিং, স্ট্রবেরি পেস্ট্রি, অ্যাপল ক্রাম্বল, লেমন মার্গারিটা, ক্যাশুনাট টার্ট, সুইস রোল, ব্লাক ফরেস্ট কেক, স্ট্রবেরি কেক, ক্রেম ব্রুলে, ক্রাম্বল কেক এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের প্রিয় রসমালাই ও অন্যান্য দেশীয় মিষ্টান্নও।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছেন হোটেলের জেনারেল মানেজার কনস্টান্টিনোস
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছেন হোটেলের জেনারেল মানেজার কনস্টান্টিনোস

আয়োজনের ফাঁকে শেফ বাটলার পুরো বুফে ঘুরিয়ে দেখান। বিস্তারিত জানান বিভিন্ন ব্রিটিশ পদ সম্পর্কে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ খাবারে পাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে মেনুতে আছে শেফার্ড’স পাই। আছে হট পট, যা ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চল ল্যাঙ্কাশায়ারের ডিশ। লাজানিয়া যা ব্রিটিশদের খুব পছন্দ। কথার মাঝে জানাতে ভোলেননি, যুক্তরাজ্যে ভারতীয় ও বাংলাদেশি ঐতিহ্যকেও দারুণভাবে উদ্‌যাপন করা হয়। গ্রিলড স্যামন, বিফ স্ট্রগানফ অবশ্য ক্ল্যাসিক ব্রিটিশ ডিশ।

ডেজার্ট কর্নারে খাবারের পাশাপাশি দারুণ কিছু তথ্যও দিলেন তিনি। বললেন, ‘আপনাকে আমার এক্সিকিউটিভ পেস্ট্রি শেফের সঙ্গে কথা বলা উচিত। তিনি সত্যিই দারুণ কাজ করেন।’ নাম সুইস রোল হলেও আদতে এটা ব্রিটিশ ডেজার্ট, ব্ল্যাক ফরেস্ট নিয়ে শেফ হেসে বললেন, ‘সবাই বলে এটা জার্মানির। কিন্তু না, এটা ব্রিটিশ। পাইনঅ্যাপল আপসাইড ডাউন কেক, পিচ টার্ট—এসবই ব্রিটিশ ডেজার্ট।’
ব্রিটিশদের পছন্দের সি ফুড নিয়ে বললেন, ফিশ অ্যান্ড চিপস এখানেও আছে।

ডেজার্ট কর্নার
ডেজার্ট কর্নার

সাধারণত  কিপারস, ম্যাকরেল খাওয়া হয় যা আগামী কোন ব্রাঞ্চ মেনুতে রাখা হবে। জানালেন ব্রিটিশদের সবচেয়ে পছন্দের খাবারের মেনু থাকে সানডে ব্রাঞ্চে। সেখানে রোস্ট বিফ, ইয়র্কশায়ার পুডিং, রোস্ট পটেটোর মতো সব পদই থাকে। এক ফাঁকে জানালেন, অধিকাংশ ব্রিটিশ ডেজার্ট আসলে স্টিম করা হয়। স্বাদের তারতম্য বোঝাতে বলেন, ম্যানচেস্টারে দুই শতাব্দী আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন ভারতীয় উপমহাদেশে ছিল, তখন তারা কারির স্বাদকে নিজেদের রেসিপিতে অন্তর্ভুক্ত করে; সে কারণেই কারিও চলে এসেছে ব্রিটিশ অথেনটিক খাদ্যতালিকায়।

শেষের দিকে শেফ ভোজনপ্রেমিকদের জন্য বলেন, ‘নিজের খাবারকে ভালোবাসুন, খাবারও আপনাকে ভালোবাসবে। খুব সহজ কথা।’

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুককে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন শেফ স্ক্রিস্টোফার বাটলার
যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুককে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন শেফ স্ক্রিস্টোফার বাটলার

এই দারুণ ব্যুফে অফার কেবল প্রতি শুক্রবারের (দুপুর ১২: ৩০ থেকে বিকেল ৪:০০ পর্যন্ত) জন্য। নির্বাচিত ব্যাংক কার্ডে থাকছে বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফার, জনপ্রতি পড়বে ৬,৯৯৯ টাকা। শিশুদের জন্য থাকছে কিডস জোন, ম্যাজিক শো এবং নানা বিনোদনের আয়োজন। নতুন ধরনের ব্রাঞ্চের অভিজ্ঞতা নিতে চলে আসতে পারেন লো মেরিডিয়েন ঢাকায়। ব্রিটিশ রন্ধনশৈলীর ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ ব্রাঞ্চ’–এ মিলবে আবহ, স্বাদ, আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের অনবদ্য মিশেল।

ছবি: লো মেরিডিয়ান ও হাল ফ্যাশন

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৪: ১৮
বিজ্ঞাপন