
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত কয়েক বছরে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তার পেছনে কাজ করছেন কিছু দূরদর্শী মানুষ। তাদেরই একজন মো. শাখাওয়াত হোসেন। দেশের পর্যটন খাতে উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক মানের আতিথেয়তা সেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন “টুরিজম লিডারশিপ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬”।
সম্প্রতি ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত ২য় টোয়াব ইন্টারন্যাশনাল টুরিজম অ্যাওয়ার্ড-এ তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো “ক্রিকেট টুরিজম” ধারণা জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে মো. শাখাওয়াত হোসেনের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত। খেলাধুলা, ভ্রমণ, সংস্কৃতি এবং আতিথেয়তাকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি দেশের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড (বিটিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে প্রথম চুক্তি সম্পাদনের অন্যতম উদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচিত করতে সহায়তা করেছে।
বর্তমানে তিনি উইনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে থাকা দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা, শেরাটন ঢাকা এবং হানসা-এ প্রিমিয়াম রেসিডেন্স দেশের প্রিমিয়াম হসপিটালিটি খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
২৫ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতায় তিনি শুধু হোটেল ব্যবস্থাপনাই নয়, ডেস্টিনেশন ব্র্যান্ডিং, টেকসই আতিথেয়তা চর্চা এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন স্বীকৃতি পেয়েছে।
এই সম্মাননা তার ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এর আগে তিনি সাউথ এশিয়ান ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ড ২০২৪-এ ‘টুরিজম ফেস অব সাউথ এশিয়া’, হাই এইম কনফারেন্স ২০২৪-এ ‘বাংলাদেশের সেরা হোটেলিয়ার’, আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ ‘সেরা হসপিটালিটি আইকন’ এবং ‘হুস হু বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেন তিনি।
করপোরেট জগতের বাইরে শিক্ষা ও গবেষণাতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন মো. শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন। একই বিভাগে পিএইচডি গবেষণাও করছেন তিনি।
পর্যটন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, তরুণদের এই শিল্পে আগ্রহী করে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের আতিথেয়তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি গর্বের অধ্যায়।