এপেক্সের নতুন পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ, সাত মাসেই মিশে যাবে মাটিতে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে শতভাগ বায়োডিগ্রেডেবল বা পচনশীল শপিং ব্যাগ। অর্থাৎ ব্যবহার শেষে ফেলে দেওয়া এই ব্যাগ দীর্ঘদিন পরিবেশে পড়ে না থেকে ধীরে ধীরে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

প্লাস্টিকের বদলে পরিবেশবান্ধব বিকল্প

এপেক্সের নতুন শপিং ব্যাগ তৈরি করা হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে সনদপ্রাপ্ত বায়োরেজিন দিয়ে। প্রচলিত প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত পলিথিন ও পলিস্টাইরিনের মতো ক্ষতিকর কৃত্রিম উপাদান এখানে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে কেনাকাটার পর ব্যাগটি ফেলে দেওয়ার বিষয়টিও হতে পারে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিবেশবান্ধব।
শুধু পরিবেশবান্ধব দাবি নয়, ব্যাগগুলোর মান ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য যাচাই করা হয়েছে দেশের দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) পৃথকভাবে ব্যাগগুলো পরীক্ষা করেছে।

সাত মাসেই মিশে যাবে মাটিতে

নতুন এই ব্যাগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর পচনশীলতা। এপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারের পর ফেলে দিলে প্রায় সাত মাসের মধ্যেই ব্যাগগুলো পুরোপুরি পচে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। একই সঙ্গে এতে ক্ষতিকর কোনো অবশিষ্টাংশও থাকার কথা নয়।
অর্থাৎ, কেনাকাটার সময় হাতে নেওয়া একটি সাধারণ ব্যাগের জীবনচক্রই এখানে বদলে যাচ্ছে। ব্যবহারের পর দীর্ঘদিন বর্জ্য হয়ে পড়ে থাকার বদলে সেটি ধীরে ধীরে প্রকৃতির অংশ হয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ছোট পরিবর্তন, বড় প্রভাব

পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বড় উদ্যোগের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনা থেকেই এপেক্সের এই উদ্যোগ। কেনাকাটার পর ব্যবহৃত ব্যাগটি ফেলে দেওয়ার সময় ভোক্তার অভ্যাসে খুব বড় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে না, কিন্তু সেই ছোট পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

একটি শপিং ব্যাগ হয়তো খুব ছোট বিষয়। তবে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কেনাকাটার সঙ্গে ব্যাগ ব্যবহার করেন। তাই এমন একটি বিকল্পের ব্যবহার বাড়লে প্লাস্টিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথও কিছুটা সহজ হতে পারে।

টেকসই উদ্যোগে এপেক্সের আরেক ধাপ

বায়োডিগ্রেডেবল শপিং ব্যাগ চালুর উদ্যোগটি এপেক্সের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমেরই অংশ। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহৃত সিনথেটিক উপকরণ রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী অবকাঠামো তৈরির মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্যবসার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকার এই প্রচেষ্টা দেখাচ্ছে, টেকসই জীবনযাপন এখন শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়; প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমেও সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

শেষ পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার পথ তৈরি হয় অনেক ছোট ছোট সিদ্ধান্ত থেকে। কেনাকাটার হাতে থাকা একটি ব্যাগও সেই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে, যদি সেটি ব্যবহারের পর পৃথিবীর ওপর দীর্ঘস্থায়ী বোঝা হয়ে না থাকে।

ছবি: এপেক্স

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ২৫
বিজ্ঞাপন