
রাজধানীর গুলশান লিংক রোডের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘সেলিব্রেটি আর্কাইভ ঈদ ফেস্টিভাল ২০২৬’। টেকসই ফ্যাশন, পুনর্ব্যবহার ও রিওয়্যার ধারণাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ভিন্নধর্মী উৎসবের প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের আগ্রহ ও সাড়া ছিল চোখে পড়ার মতো।

সকাল ১১টায় শুরু হওয়া আয়োজনটি দুপুর নাগাদ পুরোপুরি জমে ওঠে। তারকাদের প্রি-লাভড পোশাক ও অ্যাক্সেসরিজ, দেশীয় উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পণ্য, হস্তশিল্প, তাঁত এবং খাবারের স্টল মিলিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আলোকি প্রাঙ্গণ।

বিশেষ আকর্ষণ ছিল জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী বিদ্যা সিনহা মীম, সাফা কবির, সাদিয়া আয়মান ও মেহজাবীন চৌধুরীর প্রায় নতুন ও যত্নে রাখা পোশাক। দর্শনার্থীদের অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এসব পোশাক ঘুরে দেখেন এবং কেনাকাটাও করেন।
যদিও আয়োজকরা জানিয়েছেন, সপ্তাহের কর্মদিবস হওয়ায় দিনের প্রথম ভাগে ভিড় কিছুটা কম ছিল। তবে বিকেলের পর থেকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে এবং প্রি-লাভড জোনে তৈরি হয় আলাদা উৎসবমুখর পরিবেশ।

ফ্যাশন ডিজাইনার আফসানা ফেরদৌসী ও তানহা শেখ এই আয়োজনকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাঁদের ভাষ্য, ফাস্ট ফ্যাশনের এই সময়ে মানুষ অপ্রয়োজনে অনেক পোশাক কিনছে, অন্যদিকে অনেক ভালো পোশাক ব্যবহার না করেই পড়ে থাকছে। সেই জায়গা থেকে প্রি-লাভড পোশাক পুনর্ব্যবহার পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতারই একটি অংশ।

তানহা শেখ জানান, নিজের ডিজাইনেও তিনি জিরো ওয়েস্ট ও রিইউজ ধারণাকে গুরুত্ব দেন। আর আফসানা ফেরদৌসী বলেন, দেশীয় তাঁত ও হাতের কাজকে উৎসাহিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সেলিব্রেটি আর্কাইভের নেপথ্যের চার উদ্যোক্তা নীল হুরেজাহান, মৌসুমি মৌ, অর্চি রহমান ও সোনিয়া রিফাত জানান, এই আয়োজন শুধু কেনাকাটার জন্য নয়; বরং সচেতন জীবনধারা ও টেকসই ফ্যাশন সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি প্রয়াস। তাদের মতে, একটি পোশাক কত যত্নে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কীভাবে তার ব্যবহারকাল বাড়ানো যায়— সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক তারকা কোনো শুটিং বা বিশেষ অনুষ্ঠানে একবার পোশাক ব্যবহার করার পর আর পরেন না, অথচ সেই পোশাকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য স্মৃতি। সেই স্মৃতিবহ পোশাকই এখন সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে যাচ্ছে ভক্ত ও নতুন ব্যবহারকারীদের কাছে।
সন্ধ্যায় প্রি-লাভড জোনে আসেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী পারসা ইভানা। তিনি বলেন, “আমার প্রতিটি পোশাকের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোটবেলায় আমার নাচের পোশাক মা নিজ হাতে ডিজাইন করতেন। এখনও সেগুলো যত্ন করে রেখে দিয়েছি। এখন ডিক্লাটার ধারণাটা তারকাদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।”

উৎসবে অংশ নেওয়া দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যেও ছিল বৈচিত্র্য। আফসানা ফেরদৌসীর ‘অস্তিত্ব’, তানহা শেখের ‘তান’, অভিনেত্রী-উপস্থাপক সারা আলমের ‘রেনে’, সাইদা সুলতানা মিলির দয়ীতা, মিথিলা আক্তারের ‘মিতার গল্প’, মানসুরা স্পৃহার ‘সরলা’ ও মুসাররাত নওশাবার ‘ঋতি’র মতো জনপ্রিয় উদ্যোগ সকলের নজর কাড়ে।




এছাড়া ঢাকা রেকর্ডসের ভিন্টেজ ভিনাইল রেকর্ড ও সিডির সংগ্রহ সংগীতপ্রেমীদের আকৃষ্ট করেছে। অস্তিত্বের হোম ডেকর ভেঞ্চারের সৃজনশীল কাজও পেয়েছে প্রশংসা।
আয়োজনের আরেকটি আকর্ষণ ছিল ওয়েলেশিয়ার স্টল, যেখানে খেলায় অংশ নিয়ে দর্শনার্থীরা পাচ্ছেন উপহার জেতার সুযোগ।

রাখা হয়েছে জামদানির তাঁতও, যা ঘিরে ছিল দর্শনার্থীদের কৌতূহল। সংগীতশিল্পী আতিকা ইয়ামিনের ফুড ভেঞ্চারেও দেখা গেছে বেশ ভিড়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবে কোনো প্রবেশমূল্য নেই।

আগামী ২০ মে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। দ্বিতীয় দিনের সকালে থাকছে ‘স্লো মর্নিং’ নামে বিশেষ সেশন। টেকসই ফ্যাশন, ঐতিহ্য, পুনর্ব্যবহার ও ঈদ উদযাপন— সবকিছুর সমন্বয়ে ‘সেলিব্রেটি আর্কাইভ ঈদ ফেস্টিভাল ২০২৬’ হয়ে উঠেছে রাজধানীর তরুণ প্রজন্ম ও ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য এক ভিন্নধর্মী মিলনমেলা।
ছবি: হাল ফ্যাশন