
সি-ফুডের আসল জাদু লুকিয়ে থাকে তার সতেজতায়। সেই দিকটি মাথায় রেখেই আমদানিকৃত মাছ ও সামুদ্রিক উপাদান বিশেষ সংরক্ষণে রাখা হয়েছে, যাতে প্রতিটি পদে থাকে স্বাদ ও পুষ্টির নিখুঁত ভারসাম্য। ইউরোপীয় রন্ধনশৈলীর সূক্ষ্মতা, মেডিটেরেনিয়ান ও অটোম্যান ঘরানার মসলার ছোঁয়া, আর উপমহাদেশীয় স্বাদের উষ্ণতা—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বৈচিত্র্যময় এক মেনু।

উদ্বোধনের পর অতিথিদের নিয়ে যাওয়া হয় হোটেলের জনপ্রিয় সিজনাল টেস্ট রেস্টুরেন্টে, যেখানে সাজানো ছিল সামুদ্রিক খাবারের বিশাল আয়োজন। অথেনটিক নরওয়েজিয়ান স্যামন, সি-ফুড পায়েয়া, লবস্টার থারমিডর, ফিশ টাজিন, সামাক হারা কিংবা প্রন পিরামিড—প্রতিটি পদেই ছিল আন্তর্জাতিক স্বাদের ছোঁয়া।

লাইভ সি-ফুড স্টেশন ছিল এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিরা নিজের পছন্দমতো লবস্টার, কিং প্রন, অক্টোপাস বা ক্যালামারি বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রান্না করিয়ে নিতে পারছিলেন—যা অভিজ্ঞতাকে করে তুলেছে আরও ব্যক্তিগত ও স্মরণীয়।

শুধু সি-ফুড নয়, মাংসপ্রেমীদের জন্যও ছিল আলাদা আয়োজন—মাটন নেহারি ও নানা ধরনের কাবাব। আর ডেজার্ট কাউন্টারে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন যেমন বাকলাভা, কুনাফা, লুকমা, মাহলাবিয়া কিংবা কাতায়েফ—সব মিলিয়ে খাবারের শেষ পর্বটিও ছিল সমান আকর্ষণীয়।
৩০ এপ্রিল থেকে ৯ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় চলবে এই উৎসব। জনপ্রতি ডিনার বুফের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯,৪৫০ টাকা। নির্বাচিত ব্যাংক কার্ডে রয়েছে বিভিন্ন ছাড়ের সুযোগ।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়—এই ফেস্টে অংশ নিয়ে জিতে নেওয়া যেতে পারে মালদ্বীপ এয়ারলাইন্সের কাপল এয়ার টিকেট, যা অভিজ্ঞতাকে নিয়ে যায় খাবারের টেবিলের বাইরেও, এক স্বপ্নের ভ্রমণে।

সব মিলিয়ে ‘ওশানিক ট্রেজারস’ শুধু একটি খাদ্য আয়োজন নয়—এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রতিটি স্বাদ বলে একটি গল্প, আর প্রতিটি পদ মনে করিয়ে দেয়, সমুদ্রের মতোই বৈচিত্র্যময় আমাদের পৃথিবী। ঢাকার সি-ফুডপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একবার হলেও উপভোগ করার মতো এক বিশেষ আয়োজন।
ছবি: দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা