শেষ হয়েছে দ্বাদশ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বাদশ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৫। তিন দিনের এ ইভেন্টে দেশি-বিদেশি প্রায় ২০০টি ভ্রমণপ্রতিষ্ঠান, এয়ারলাইনস, হোটেল-রিসোর্ট এবং ট্যুর অপারেটর অংশ নেয়। দর্শনার্থীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট প্যাকেজ, বিশেষ অফার, র‍্যাফেল ড্র এবং নানা সারপ্রাইজ। নতুন নতুন ভ্রমণ গন্তব্য ও ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কথা বলেছে আগত ব্যক্তিদের সঙ্গে। আসন্ন শীত মৌসুমে ভ্রমণ পরিকল্পনা যাঁরা করছেন, তাঁদের জন্য এই ইভেন্ট ছিল বেশ আকর্ষক।

বিমান বাংলাদেশের স্টল
বিমান বাংলাদেশের স্টল

আয়োজকদের মতে, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুধু ভ্রমণের সুযোগই নয়, এটি পর্যটন খাতে নতুন সহযোগিতা তৈরি, দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করার বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। এ আয়োজন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে।

বিজ্ঞাপন

মেলায় ছিল বিজনেস টু বিজনেস সেশন, যেখানে ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল ও রিসোর্ট মালিকেরা ভবিষ্যতের যৌথ উদ্যোগ ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কর্মশালা ও সেমিনারে পর্যটনশিল্পের নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

এসব স্টল দিচ্ছে নানা অফার
এসব স্টল দিচ্ছে নানা অফার

বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘আমাদের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, পাহাড়-প্রকৃতি, পুরাকীর্তি এবং বহুমাত্রিক সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার জন্য এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
বিআইডব্লিউটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মিশা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নৌপথে যাত্রী চলাচল অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তাঁরা ভাবছেন, এই রুটগুলোকে পর্যটনের কাজে ব্যবহার করা যায় কি না। তাঁর মতে, নদীকে ঘিরে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অসীম—আর তাই রিভার ট্যুরিজম হতে পারে এক নতুন দিগন্ত।

বিজ্ঞাপন

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগগিরই চালু হচ্ছে রিভার ক্রুজ। পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ প্যাডেল স্টিমারকে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে পর্যটকবান্ধব করে। আধুনিক সুবিধা, আরামদায়ক পরিবেশ ও বিনোদনের নানা আয়োজন যুক্ত করে তৈরি করা হচ্ছে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। এই উদ্যোগ শুধু ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে তা–ই নয়, দেশের পর্যটনশিল্পে যুক্ত করবে এক নতুন সম্ভাবনাময় খাত রিভার ট্যুরিজম।

নেপালের স্টল
নেপালের স্টল

ভ্রমণকন্যার স্টলের কর্মী জিম জানালেন, তিন দিনের এই আয়োজনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে শুক্রবার ছুটির দিনে ভ্রমণপ্রেমীরা মেলায় আসেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে। তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, বিশেষ ছাড় ও আকর্ষণীয় প্যাকেজ তাঁদের শীতকালীন ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মেলায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ছিল ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও নেপাল। দুটি হলে বসানো হয় ১৮০টিরও বেশি বুথ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছিল টাইটেল স্পনসর, নেপাল ছিল প্রাইম পার্টনার কান্ট্রি এবং পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে অংশ নেয় ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ। হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে ছিল ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান।

এবারের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, পর্যটন বিনিয়োগ প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং র‍্যাফেল ড্র যেখানে সৌভাগ্যবান বিজয়ীরা পেয়েছেন এয়ারলাইনস টিকিট ও গিফট ভাউচার। দেশি-বিদেশি ভ্রমণপ্রতিষ্ঠান, এয়ারলাইনস, হোটেল-রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটরসহ প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এবারের আসরে। মেলায় ভ্রমণপ্রেমীরা পাচ্ছেন আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট প্যাকেজ, বিশেষ অফার, র‍্যাফল ড্র এবং নানা সারপ্রাইজ। এ ছাড়া ভ্রমণবিষয়ক নতুন গন্তব্য ও প্যাকেজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলছে। মেলায় ছিল ভ্রমণ ও দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য নিয়ে উদ্যোক্তাদের স্টল। ছিল শিল্পলোক নকশিকাঁথার ব্যবহার্য পণ্য শাড়ি, ডায়েরি। ছিল এসএমই ফাউন্ডেশন, বিদোরাসহ আরও কিছু দেশীয় উদ্যোগতার স্টল।

শিল্পলোকের স্টল
শিল্পলোকের স্টল

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই আয়োজন শুধু ভ্রমণপিপাসুদেরই নয়, দেশের পর্যটনশিল্পকে আরও গতিশীল করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরবে। এক ছাদের নিচে এতগুলো দেশি-বিদেশি ভ্রমণপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য সত্যিই এক আনন্দঘন অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল।

শুধু ভ্রমণ পরিকল্পনাই নয়, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পর্যটন খাতে নতুন সহযোগিতা তৈরি, দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করা। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এ ফেয়ার শুধু বিনোদনের নয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরারও বড় প্ল্যাটফর্ম।

ছবি: হাল ফ্যাশন

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১: ৫৩
বিজ্ঞাপন