
‘উদ্যোক্তা ভূমি’র দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশ্বরঙের আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নীল উৎসব ২০২৬’। বর্ষা, নীলের আবেগ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

দুই বছর আগে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশ্বরঙের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘উদ্যোক্তা ভূমি’ প্ল্যাটফর্মটি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক বিকাশে সহায়তা করে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর সদস্যরা বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে নিজেদের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পেয়েছেন। তারই বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল এই উৎসব।

এই উৎসবের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয় কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এ সময় বিশ্বরঙের দীর্ঘ ৩০ বছরের পথচলা, সাফল্য এবং ‘উদ্যোক্তা ভূমি’র প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্বরঙ উদ্যোক্তা ভূমির সভাপতি ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা এবং ‘নীল উৎসব’ আয়োজনের পেছনের ভাবনা উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
বিপ্লব সাহা বলেন, ‘নীল শুধু একটি রং নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বর্ষার সঙ্গে নীলের যে নিবিড় সম্পর্ক, সেই সৌন্দর্য ও অনুভূতিকেই আমরা “নীল উৎসব ২০২৬”-এর মাধ্যমে উদ্যাপন করছি।’ তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের একত্র করে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং তাঁদের সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করাই ‘উদ্যোক্তা ভূমি’র মূল লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, গত দুই বছরে প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোক্তারা তাঁদের পরিশ্রম, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন, আর তাঁদের সেই অর্জনকে সম্মান জানাতেই এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত বিশিষ্ট অভিনেত্রী দিলারা জামান বলেন, ‘উদ্যোক্তা ভূমি একটি আশার নাম। আমি হয়তো একদিন থাকব না, কিন্তু বিশ্বরঙ ও উদ্যোক্তা ভূমি মানুষের হৃদয়ে সব সময় বেঁচে থাকবে।’

অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী উন্নয়নে দক্ষতা, অর্থায়ন, বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের মূলধারায় নিয়ে আসার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। আরও উপস্থিতি ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান, বিসিকের ডেপুটি ম্যানেজার নাসরিন রহমান।

দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল ‘বর্ষামূল ২০২৬’ শীর্ষক বর্ষাভিত্তিক চিত্র ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় কয়েক হাজার ছবি জমা পড়ে। সেখান থেকে সেরা ১০ জন নারী, ৩ জন পুরুষ এবং ৩ জন শিশুকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বিজয়ীদের হাতে উত্তরীয়, সম্মাননা ও প্রাইজমানি তুলে দেয় বিশ্বরঙ।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সেলিব্রিটি আড্ডা’ পর্ব। সেখানে অতিথিরা বাংলা সংস্কৃতি, বর্ষা এবং নীল রঙের নান্দনিকতা নিয়ে আলোচনা করেন। নীল রঙের পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রচারণা সহযোগী হাল ফ্যাশনের প্রতিনিধি ও অন্যতম বক্তা শেখ সাইফুর রহমান বলেন, ‘নীল বাংলাদেশের এক মূল্যবান সম্পদ। এই উৎসবের মাধ্যমে নীলের আবেদন আরও ছড়িয়ে পড়বে। উৎসব মানেই আনন্দ, উৎসব মানেই উদ্যাপন।’