
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প ধীরে ধীরে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোটেল বাড়ছে, দেশীয় রিসোর্টগুলোও বিশ্বমানের সেবা দিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পর্যটকের চাহিদা বদলেছে, বদলেছে আতিথেয়তার সংজ্ঞাও। এই পরিবর্তনের সময়েই দেশের আন্তর্জাতিক ও বিলাসবহুল হোটেল খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দিল। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘লিডারশিপ, ইউনিটি অ্যান্ড এক্সিলেন্স’। শুধু নতুন কমিটির অভিষেক নয়, বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য সংগঠন পরিদপ্তরের প্রতিনিধিরা, বিহার প্রশাসক মো. সাজেবুর রহমান এবং দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেনারেল ম্যানেজার ও উদ্যোক্তারা।
নবনির্বাচিত সভাপতি নাসের রহমান, এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্প এখন দ্রুত বিকাশের পথে। এই অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্প দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। এই রূপান্তরের ধারায় বিহা ঐক্য বজায় রাখতে, সেবার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করতে এবং একটি টেকসই ও বিশ্বমানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তার মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় ও নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু নতুন হোটেল নির্মাণই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের সেবা, দক্ষ জনবল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী সভাপতি খালেদ উর রহমান বলেন, নতুন কমিটির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি সংগঠনের ধারাবাহিকতা ও সদস্যদের পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্ব শিল্পের নীতিগত উন্নয়ন, সদস্যদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি বলেন "বর্তমান সরকার পর্যটনবান্ধব শিল্প গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিতে আগ্রহী। দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, সরকার সেসব বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বিশ্বের অনেক দেশেই পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বাংলাদেশেও এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোটেল, নতুন রিসোর্ট, মেডিকেল ট্যুরিজম, মাইস (মিটিং, ইনসেনটিভ, কনফারেন্স ও এক্সিবিশন) পর্যটনের মতো নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, শিল্পবান্ধব নীতি প্রণয়নে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় এবং দেশের হোটেল শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র, পাহাড়, বন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো শক্তিশালী সম্পদ। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন আধুনিক অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক মানের আতিথেয়তা এবং সমন্বিত উদ্যোগ। বিহার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ সেই যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শিল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব দেশের হোটেল ও রিসোর্ট খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) দেশের আন্তর্জাতিক ও বিলাসবহুল হোটেল শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান সংগঠন। টেকসই পর্যটনের বিকাশ, আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা এবং পর্যটনবান্ধব নীতি প্রণয়নে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।