
ত্রিবেণী এমন একটি গল্প, যা সামগ্রিকতা, আধ্যাত্মিকতা ও আধুনিক সময়ের স্নায়ুযুদ্ধ, তথা বিভাজনগুলোর কথা বলে। মিউজিক্যাল পাপেট থিয়েটার ত্রিবেণী ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী সৃষ্টি ‘রক্তকরবী’কে বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করার একটি প্রয়াস। ত্রিবেণীর গল্প লিখেছেন এজাজ ফারাহ, নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী নওশাবা আহমেদ।

এ বিষয়ে নওশাবা জানান, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “রক্তকরবী” থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছে ত্রিবেণী। “রক্তকরবী”কে আমরা এ সময়ের আলোকে দেখাতে চেয়েছি। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম থেকে এ সময়ে আমরা যাঁরা যুবসমাজ আছি, তাঁদের মধ্যে একটা ভাবনা ও তাড়না তৈরি হয়। সেটারই প্রতিফলন হচ্ছে ত্রিবেণী।’
কাজী নওশাবা আহমেদ আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটা অন্ধ মেয়ের ভাবনার নানা প্রতিচ্ছবি উঠে আসে নাটকে। বর্তমান সময়ে মানুষ সবকিছু বাইরের চোখ দিয়েই দেখছে। মনের চোখ দিয়ে দেখা বন্ধ করে দিয়েছে বলেই সারা বিশ্বে এত যুদ্ধ হয়, একে অপরকে এত ঘৃণা করে।

যদি মনের চোখ দিয়ে দেখত, যেমনটা ‘রক্তকরবী’–এর নন্দিনী দেখেছে, তাহলে হয়তো পৃথিবীজুড়ে এত যুদ্ধ ও রেষারেষি থাকত না। সেই আশার কথাই বলে ত্রিবেণী। ত্রিবেণীর সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন রংপুরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরা। তাঁদের বেশির ভাগই প্রথমবারের মতো মঞ্চে পারফর্ম করেন। শিল্পনির্দেশনা ও পাপেট তৈরির কাজ করেছেন করিম ও চয়ন কুমার। পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন সারাহ অরনি।

শ্যাডো পাপেট চিত্রায়ণ করেছেন মোস্তাক মোর্শেদ ও মতিন। আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন সাহিল রনি। সংগীত আয়োজন করেছেন এজাজ ফারাহ ও অভিষেক ভট্টাচার্য। নৃত্য পরিচালনা করেছেন আনন্দিতা খান। সার্বিক সহযোগিতায় টুগেদার উই ক্যান এবং প্রযোজনায় সুন্দরম রংপুর বিভাগ।