.jpeg?rect=76%2C0%2C1200%2C1600&w=760&auto=format%2Ccompress&fmt=avif)
ইডলিসাম্বার, দোসা, উপমা, মেদু বড়া, উত্তাপ্পাম, ফিশ মোয়েলি, কেরালা প্রন কারি, কার্ড রাইস, রাসাম—জিবে জল আনা এই পদগুলোর নাম বেশ চেনা লাগছে, তাই না? এ সময়ের বলিউডের ফিটনেস–সচেতন তারকা দীপিকা পাড়ুকোন, আলিয়া ভাট, কারিনা কাপুর, জাহ্নবী কাপুর, সারা আলী খানসহ সবার কাছ থেকেই জানা যায়, তাঁদের প্রিয় খাবারের তালিকায় আছে দক্ষিণ ভারতীয় খাবার। আসলেই খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত এই ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণি খাবারগুলো।
.jpeg?w=640&auto=format%2Ccompress&fmt=webp)
ঢাকার ভোজনরসিকদের এই অথেনটিক দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের স্বাদ দিতে গুলশানের পাঁচ তারকা হোটেল রেনেসেন্স ঢাকা গুলশান হোটেলে ৩ জুলাই শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী সাউথ ইন্ডিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল। চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত৷ এ উপলক্ষে ৩ জুলাই আয়োজন করা হয় একটি সংবাদ সম্মেলনের। এখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা, দক্ষিণ ভারতীয় শেফ তামিল মানিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে রেনেসাঁর তিনতলায় অবস্থিত অল টাইম বাহার রেস্তোরাঁয় আয়োজন করা হয় ১৫০টি আইটেম নিয়ে দক্ষিণি খাবারের বুফে।
.jpeg?w=640&auto=format%2Ccompress&fmt=webp)
রেনেসেন্স ঢাকা গুলশান হোটেলের ডিরেক্টর অব মার্কেটিং সৈয়দ মেহরান হোসেন জানান, তাঁরা সব সময়ই বিভিন্ন ধরনের অথেনটিক কুইজিন নিয়ে বুফের আয়োজন করে থাকেন। ভোজনরসিকদের ভিন্নতার স্বাদ দেওয়ার জন্য তাঁরা এসব উদ্যোগ নেন। ভারতীয় খাবার, বিশেষ করে হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যের দক্ষিণ ভারতীয় খাবার রয়েছে এবারের আয়োজনে। চেন্নাই ওয়েস্টিনের কালিনারি এক্সপার্ট, দক্ষিণি খাবারে পারদর্শী শেফ তামিল মানি এসেছেন এই রেসিপিগুলো নিজের তত্ত্বাবধানে তৈরি করার জন্য।

শুধু তা–ই নয়, এই রান্না করার জন্য বিশেষ ধরনের মসলা ও রান্নার সরঞ্জাম তিনি নিয়ে এসেছেন চেন্নাই থেকেই। নৈশভোজের এ আয়োজনের জন্য জনপ্রতি ৭ হাজার ৯৯৯ টাকা খরচ পড়বে। তবে ২৯টি ব্যাংক কার্ডের জন্য এখানে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ও বাই ওয়ান গেট টু অফার রয়েছে। এর সঙ্গে রোজ সন্ধ্যায় থাকছে দক্ষিণ ভারতীয় ধ্রুপদি নৃত্যের পরিবেশনা।
কথা হয় দক্ষিণ ভারতীয় গেস্ট শেফ তামিল মানির সঙ্গে। তিনি জানান, দক্ষিণ ভারতের অন্তর্ভুক্ত সব অঙ্গরাজ্য, অর্থাৎ অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু, পদুচেরি, তেলেঙ্গানা, চেন্নাই ইত্যাদি অঞ্চলের নিজস্ব খাবার থাকছে এই আয়োজনে। মূলত গরমমসলার পেস্ট, নারকেলের দুধ, কারিপাতা, শর্ষেদানা, বিশেষ মসলা বাত্তাল, কার্ড চিলি, শুল পাট্টে ইত্যাদি অথেনটিক উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে রান্নায়। থাকছে সকালের বিখ্যাত নাশতা কুট্টুর খিচুড়ি, কাদাল কারি, ইডলি, দোসা, মাসালা বড়া, মুক্কা জাঙ্গা উল্লিকারাম, বাঞ্জারাম, কাড়াই বারুভাল, আলাপি ফিশ কারি, পেপার রসম, লংবিন পারুপ্পুসিলি, মুরুঙ্গাই কিরাইকাতু, মোসাপুড়া, মাঞ্জারাম মিং মাংমাল, পুত্তু উইথ বিফ আলার থিরাথাউর, আপ্পাম অ্যান্ড ইস্থু, পুত্তু অ্যান্ড কাদাল কারি ইত্যাদি সেভরি ডিশ।
.jpeg?w=640&auto=format%2Ccompress&fmt=webp)
.jpeg?w=640&auto=format%2Ccompress&fmt=webp)
মিষ্টি পদের মধ্যে থাকছে নারকেলের বরফি, লাড্ডু, টোস্টেড কোকোনাট বল, কারপাটি লাড্ডু, বুন্দিয়ার লাড্ডু, মালাডু, উন্নিয়াপ্পাম, পায়াসাম, মৈসুর পাক, সুইট পোঙ্গাল ও রাওয়া কেসারি। শেফ তামিল মানি বললেন, দক্ষিণি মিষ্টি খাবারে তালের গুড় আর আখের চিনি ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সেই স্বাদই তিনি ঢাকার ভোজনরসিকদের দিতে চান।

রেনেসেন্স ঢাকা গুলশান হোটেলের কর্মী সালমা জানালেন, এই আয়োজন উপলক্ষে তাঁরা সাউথের আবহে সেজেছেন। মেয়েরা পরেছেন শাড়ি আর মাথায় দিয়েছেন ফুলের গাজরা। ছেলেরা পরেছেন সাদা ধুতি, কমলা ফতুয়া আর কাঁধে সাদা উত্তরীয়। উৎসবের আবহে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে তাঁরাও উপভোগ করছেন পুরো আয়োজন। পুরো বাহার রেস্তোরাঁটি কলাপাতা, হাতির মোটিফ, দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার রজনীকান্ত, প্রভাসের বড় কাটআউট দিয়ে সাজানো হয়েছে। সব খাবারই কলাপাতায় পরিবেশন করা হয়েছে। গাঁদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে রেস্তোরাঁ।


ঢোকার পথেই হলুদ টেম্পো মোটিফের ফটোবুথ আছে ছবি তোলার জন্য। রয়েছে লাইভ দোসা স্টেশন এবং শেফ সাইদুলের স্টেশনে পানিয়ারাম পরিবেশন করা হচ্ছে নারকেল ও টমেটোর চাটনি দিয়ে। এ ছাড়া রয়েছে ভাপা পিঠার মতো দেখতে কুত্তু। ছুটির দিনে চলে যেতে পারেন হোটেল রেনেসাঁর এই ভিন্ন স্বাদের সব খাবার খেতে।